স্বস্তির জয়ে মিলল অস্ট্রেলিয়ার টিকিট
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা ভর্তি হাজার পনেরো বাংলাদেশি যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। স্বস্তি জয়টা যে মিলে গেছে!
হ্যাঁ, স্বস্তিই তো! কতো কিছু হুমকির মুখে ছিল দেখুন। পাকে চক্রে ম্যাচটা হেরে বসলেই এক বছরের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল থেকে নির্বাসনে চলে যেতে হতো।র্যাঙ্কিংয়ে যেটুকু উন্নতি হয়েছে শেষ কয় দিনে, তাও ভেসে যেত জলে। মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারিয়ে অন্তত সেসব ঠেকিয়ে দেওয়া গেছে। কাটা হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার টিকিটও। আগামী ফিফা উইন্ডোয় সেখানে খেলেই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু করবেন জামাল ভূঁইয়ারা।
আগের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের এই পর্যায়ে তাও অ্যাওয়ে গোল সুবিধা ছিল। কিন্তু এবার তাও নেই। তা না হলে বাংলাদেশকে গোলশূন্য ড্র করলেই হতো, মালদ্বীপ থেকে যে গোল করে ড্র নিয়ে এসেছিল দল। সেটা নেই বলে ম্যাচটা জিততেই হতো।
সে মরিয়া ভাবটার ছাপ দলের খেলায় পড়েছে একেবারে শুরু থেকেই। ১২ মিনিটেই তার প্রমাণ মিলল রাকিব হোসেনের গোলে। সে গোলটা যতটা না রাকিবের, তার চেয়ে বেশি যেন ফয়সাল হোসেন ফাহিমের। মাঝমাঠ থেকে আসা বলটা বেরিয়ে যাচ্ছে ভেবেই নিয়েছিলেন মালদ্বীপ রাইটব্যাক হাসান সিফাজ। পেছন থেকে এসে আচমকা বলটা পেয়ে বসেন ফাহিম, নিচু ক্রস করেন মাঝে থাকা রাকিবকে। এরপর ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাওয়া প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে গোলটা করতে ভুল করেননি বসুন্ধরা কিংস ফরোয়ার্ড।
শেষ মুহূর্তে যত নাটকীয়তা হয়েছে, রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা ছিল রেফারির শেষ বাঁশির জন্য, সেটা নেই হয়ে যেতে পারত শুরুর অর্ধেই। প্রথম গোলের কারিগর ফাহিমের শট ঠেকান প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক। এরপর রাকিবের আরও দুটো শট ঠেকিয়ে দেন সেই হুসাইন শরিফ। তার মধ্যে ২৮ মিনিটে একেবারে ফাঁকায় তাকে পেয়েও গোল করতে পারেননি রাকিব। সেটা হয়ে গেলে ম্যাচটা একেবারে মুঠোয় এসে যেত বাংলাদেশের।
তার খেসারতটা দলকে দিতে হয় একটু পর। ৩৬ মিনিটে কর্নার থেকে আইসাম ইবরাহিম সমতায় নিয়ে আসেন মালদ্বীপকে। সেটা বিরতির আগ পর্যন্ত আর ভাঙা যায়নি।গেল বিরতির একটু পরেই। ফাহিমের গোলে। বক্সের জটলা থেকে তার নেওয়া শটটা গিয়ে আছড়ে পড়ে জালে। তাতেই বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা মাতে উল্লাসে।
তবে সেটা কিছু পরই উবে গেল। না, গোল নয়। সদ্য বসুন্ধরা কিংসে পাড়ি জমানো সোহেল রানা অহেতুক ফাউল করে লাল কার্ড দেখে বসায়। ১০ জনের দল নিয়ে ৩০ মিনিট গোল হজম করাটা যে নেহায়েতই কঠিন ব্যাপার!
তার ওপর যোগ করুন শেষ দশ মিনিটে বাংলাদেশের গোল হজম করে বসার 'অভ্যাস'টাকে। ভয় না পেয়ে উপায় আছে? সেটা আরও বাড়িয়ে দিল শেষ সময়ে একের পর এক মালদ্বীপের শানানো আক্রমণগুলো, যদি একটা চলে যায় জালে!
না, শেষমেশ তা আর হয়নি। মালদ্বীপকে রুখেই দিয়েছে বাংলাদেশ। তাও কী দারুণভাবে! আর তাতেই মিলে যায় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পরের রাউন্ডের টিকিট। সঙ্গে স্বস্তিটা তো আছেই!