তামিম-আয়েশা: প্রেম-প্রতীক্ষা, বিরহ অতঃপর সুখের সংসার

বন্ধুতা, প্রেম-ভালবাসা, প্রতীক্ষা, বিরহ অতঃপর বিয়ে! গল্প উপন্যাসের সেই কাহিনীর মতোই চেনা দৃশ্যপট। তবে সেই গল্পটা কোন সাধারণের নয়! তাইতো সেই গল্পটা শুরু কাজীর দেউড়ি নয়, ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বাংলাদেশেই। তারকা ক্রিকেটার তামিম ইকবাল আর আয়েশা সিদ্দিকা এখন সুখী দম্পতির ছবি।

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবসে চলুন তামিম-আয়েশার সেই কাছে আসার গল্পে চোখ বুলিয়ে নেই এক পলকে। গল্পের শুরুটা অবশ্য সেই কৈশোরে। যাকে বলে কৈশোরের ভালবাসা!

তখন তামিম চট্টগ্রামের সানসাইন গ্রামার স্কুলের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র। আয়েশা স্ট্যান্ডার্ড এইটে। হঠাৎ করেই একদিন ভালবাসার রঙ লাগল তামিমের গায়ে। দুর থেকে আয়েশাকে দেখেই ভাল লেগে গেল তামিমের। ভাল লাগার কথা জানিয়েও দিলেন। কিন্তু অন্যপ্রান্ত থেকে সারা মিলল কোথায়? বুঝেও যেন না বোঝার ভান করলেন আয়েশা। নাকি দেখে নিতে চাইলেন কাজীর দেউরির ছেলেটি কি তাকে সত্যিকারের ভালবাসে?

তামিম তখন ভালবাসায় বুঁদ। ভালবাসার মানুষ না বলেছে তাতে কি হলো? হাল ছাড়লেন না। কাছের বন্ধুদের কাছে খুলে বললেন সবকিছু। সাহায্যের হাত বাড়ালো তারা। তাতেও বরফ গলল না। আয়েশা নির্বিকার।

তারপর বন্ধুতার প্রস্তাব দেন তামিম। এবার হ্যা বলেন আয়েশা। কিন্তু জানতো বন্ধুত্ব থেকেই একদিন প্রেম হয়ে যাবে। যেমনটা মিডিয়াকে জানিয়েছেন তামিম, ‘ও প্রেম প্রত্যাখান করার পর বলি আমরা অন্তত বন্ধু তো হতে পারি। এই টোপে আয়েশা রাজি হয়। এরপর আমার সঙ্গে মেশার পর বুঝতে পারে ছেলে হিসেবে খারাপ নই আমি। প্রেমের শুরু এরপর থেকে। কিন্তু ওর পরিবার স্কুল আর কোচিংয়ে যাওয়া আসার সময় সঙ্গে একজন লোক পাঠাত বলে পথে কথাই হত না। ভরসা ছিল মোবাইল। সেই মোবাইলেও ধরা পড়ে যাই একটা মেসেজ পাঠিয়ে। কেড়ে নেওয়া হয় ওর মোবাইল। তবে আমার মা শুরু থেকেই জানতেন সব। তিনি সবসময় আমার পাশে ছিলেন।’

কিন্তু একটা সময় আয়েশা ঠিকই বুঝতে পারলেন তার জীবনে সত্যিকারের ভালবাসা এসেছে। হ্যাঁ বলে দিলেন তিনি। তামিম তখন পৃথীবির সবচেয়ে সুখী মানুষ।

কিন্তু সেই প্রেম ধরে রাখতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে তামিমকে। যেমনটা জানালেন আয়েশা নিজেই। তার কথা, ‘ আসলে ও অনেক কষ্ট করেছে। এটা অবিশ্বাস্য। সম্পর্ক ধরে রাখার জন্য একটা ছেলে হিসেবে সে অনেক কিছু করেছে। সত্যি বলতে কি, ও এমন না হলে এত দূর হয়তো আসতেও পারতাম না। নিজে ধৈর্য ধরেছে, আমাকে বুঝিয়েছে। এ কারণেই আমরা এত দিন ধরে সম্পর্কটা ধরে রাখতে পেরেছি।’

মালয়েশিয়া থেকে এমবিএ করা আয়েশা চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াসিন ও মমতাজ বেগমের কনিষ্ঠা কন্যা। তামিমের মতো তিনিও বনেদি পরিবারে। সেই দুই পরিবার মিলে তাদের এক করে দিলেন ২০১৩ সালের ২২ জুন। সেদিন তাদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর লগ্নটাও ছিল জমকালো, রাজকীয়! বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেট তারকার বিয়ে বলে কথা! আড়াই কোটি টাকা ব্যয় করে তামিম ইকবাল ঘরে তুললেন তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা আয়েশা সিদ্দিকাকে।

গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে তামিমের পরনে মেরুন রংয়ের পাঞ্জাবি। আর আয়েশাকে দেখাচ্ছিল চিরায়ত বাঙালি বধূর মতো। গায়ে হলুদের শাড়িটিও যেন লাজুক বাঙালি বধূর প্রতীক বহন করছিল। আক্দ সম্পন্ন হয় চট্টগ্রামের ধনিয়া লালপাড়ার বায়তুস শরফ মসজিদে। বিয়ের খরচ ধরা হয় আড়াই কোটি টাকার বেশি।

তামিমের মা নুসরাত ইকবাল পুত্রবধূকে দেন ৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। আর বিয়ের কাবিন ৫০ লাখ টাকা। চট্টগ্রামের বিখ্যাত ফুটবলার প্রয়াত ইকবাল খান ও নুসরাত ইকবালের কনিষ্ঠ ছেলের শুভ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখেন ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহ্যবাহী খান পরিবার।

এটা তো সবারই জানা-চট্টগ্রামের মানুষ মানেই ভোজনরসিক। আলোচিত বিয়ের রান্নার অর্ডার পেয়েছিলেন ঢাকার ইকবাল বাবুর্চি। কাচ্চি বিরিয়ানিসহ দশ পদের আইটেম ছিল খাবার মেন্যুতে। তারপর সময় কেটে গেছে অনেকটা। তামিম-আয়েশা দুজন, তাদের সংসারেও এসেছে দুজন।

২০১৬ সালে ছেলে সন্তানের বাবা হন তামিম। ছেলের নাম আরহাম ইকবাল। ২০১৯ সালের নভেম্বরে তাদের কোল জুড়ে আসে কন্যা সন্তান- আলিশবা ইকবাল খান। তাদের নিয়ে এখন সুখের সংসার!

খেলার দুনিয়া | ফলো করুন :