শান্ত অধিনায়কত্বের জোর দাবিদার: হাথুরু
সিলেট টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্ত যেন নিজেকে নতুন করেই আবিষ্কার করেছেন। এর আগে বাংলাদেশকে তিন ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে জয় পাননি একটি ম্যাচেও। ক্রিকেটের সবচেয়ে কুলীন ফরম্যাটে অধিনায়কত্বের অভিষেক ছিল তার, সেখানেই বাজিমাত করলেন।
তার এমন নৈপুণ্যে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বেশ সন্তুষ্ট তার ওপর। তার কথা, ‘অধিনায়কত্ব আর নেতৃত্ব দুটো কিন্তু আলাদা বিষয়। দুই জায়গাতেই সে দারুণ ছিল।’
শুধু ফল দিয়েই নয়, অধিনায়ক শান্ত মাঠও সামলেছেন বেশ ভালোভাবে। তাকে বেশ উজ্জীবিতই দেখা গেছে। সেটা পুরো দলেও ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। পুরো টেস্টেই দল ছিল বেশ চনমনে। শেষ দিন এজাজ পাটেল যখন উইকেটে আসছেন শেষ ব্যাটার হিসেবে, তখন কেউ একজন পেছন থেকে বলে উঠেছিলেন, ‘মামুর ব্যাটাকে ঘিরে লে’, পুরো দলকে এমন উজ্জীবিত রাখার কৃতিত্বটা অধিনায়ক শান্তর ঝুলিতে গেছে বেশ।
এদিকে অধিনায়কত্বের দিক থেকেও তিনি ছিলেন প্রায় নিখুঁত। দলের প্রয়োজনে পার্ট টাইমার মুমিনুল হককে আক্রমণে এনে প্রতিপক্ষের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন, কখনো বা আবার প্রতিপক্ষকে চেপে ধরছেন পাঁচ ক্লোজ ইন ফিল্ডার দিয়ে… ভুলও করেছেন অবশ্য, কিন্তু সে ভুল থেকে শিখেছেনও বেশ দ্রুতই।
সব কিছু মিলিয়ে হাথুরুর বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। তার কথা, ‘অধিনায়কত্বটা সে দারুণ করেছে। ম্যাচে সে সবসময় এক ধাপ এগিয়ে ছিল। দারুণ ফিল্ডিং সাজিয়েছে। কখনো আন অর্থোডক্স ছিল, কিন্তু বেশ সফল ছিল। নেতৃত্বের দিক থেকেও বেশ ভালো ছিল। সে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।’
সাদা পোশাকের অধিনায়কত্বে এমন শুরুর পর হাথুরু তার সামনে লম্বা ভবিষ্যৎই দেখছেন। পূর্ণমেয়াদে অধিনায়ক কে হবেন, তা এখনো জানায়নি বিসিবি। সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে শান্তকেই বেছে নিয়েছে বোর্ড। নিউজিল্যান্ড সফরে দলের নেতা থাকবেন তিনিই। তবে হাথুরু তাকে পূর্ণ মেয়াদে অধিনায়কত্বের শক্তিশালী দাবিদার হিসেবেই দেখছেন। তার কথা, ‘আমার মনে হয় তার সামনে লম্বা একটা ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। সে অধিনায়ক থাকবে কি না, সে বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। তাকে আমি অধিনায়কত্বের জোর দাবিদার হিসেবেই দেখছি।’